Students Save 30%! Learn & create with unlimited courses & creative assets Students Save 30%! Save Now
Advertisement
  1. Business
  2. Responsive Web Design
Business

রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইনের ১২ টি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা

by
Length:MediumLanguages:
This post is part of a series called How to Make Responsive Business Websites (Tutorial Guide).
What Is Responsive Web Design? (Definition + Examples)
25 Best Responsive Business Website Design Examples

Bengali (বাংলা) translation by Shakila Humaira (you can also view the original English article)

এতে কোনও সন্দেহ নেই যে, ২০১৫ সালে যেদিন থেকে গুগল রেস্পন্সিভ, মোবাইল বান্ধব, ওয়েবসাইট তাঁদের সার্চ র‍্যাংকে ভালো ফলাফল পাবে, এই ঘোষণা দিয়েছে, তখন থেকেই রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইনের জনপ্রিয়তা ও গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে।

যাই হোক, রেস্পন্সিভ ডিজাইন কিন্তু অনেক আগের একটি ধারণা। আসলে, বিভিন্ন ধরনের ব্রাউজারের ভিউপোর্টের প্রস্থের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারে এমন একটি ওয়েবসাইটের লেআউট সর্বপ্রথম ২০০২ সালের দিকে ডিজাইন করা হয়েছিলো। প্রযুক্তির অগ্রগতির উত্তরোত্তর উন্নতিকে ধন্যবাদ দেয়া যায়। মূলত এ কারণেই আজকাল ওয়েবের জন্য ডিজাইন করার মানেই হচ্ছে অসংখ্য স্ক্রিন সাইজের কথা মাথায় রেখে ডিজাইন করা যার অবশ্যম্ভাবী ফলাফল হচ্ছে রেস্পন্সিভ ডিজাইন।

কিন্তু, ২০১০ সালে ইথান মারকটি আনুষ্ঠানিকভাবে রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইন তৈরি করার আগ পর্যন্ত এটি এত ব্যাপকভাবে প্রচলিত ছিল না। একজন স্বাধীন ওয়েব ডেভেলপার ইথান মারকটি রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইন সম্পর্কে একটি বইও লিখেছেন।

তারপর থেকে আমরা টেকনোলজির ক্রমাগত উন্নতি দেখেছি। এমনকি তারপর দেখা গেলো মানুষ কেবল তাদের স্মার্টফোন এবং ট্যাবলেট কল করা ও মেসেজ পাঠানোর কাজে ব্যবহার করছে না। এর পাশাপাশি তারা পছন্দের ওয়েবসাইট ও খবরাখবর এসব ডিভাইস থেকেই দেখছে। আর এই সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ভবিষ্যতে রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইন এর গুরুত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে। কারণ, বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞের ধারণা মোবাইল ডিভাইসের ব্যবহার আরো অনেক বেশি বৃদ্ধি পাবে।

এই বিষয়গুলো যোগ করলে দাঁড়ায়, রেসপন্সিভ ওয়েব ডিজাইন ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী ধারনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। তবে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে, রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইনের বেশ কিছু সুবিধা আছে। এই রচনায় আমরা রেসপন্সিভ ওয়েব ডিজাইনের বেশ কিছু ফিচার/বৈশিষ্ট্য এবং সুবিধা তুলে ধরবো। এছাড়াও আমরা আপনাকে দেখাবো যে কিভাবে আপনার ওয়েবসাইট এবং ব্যবসা রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইন ব্যবহারের কারণে উপকৃত হতে পারে।

রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন এর মূলনীতি

রেস্পন্সিভ ডিজাইন এর ক্ষেত্রে বেশ কিছু মূলনীতি আছে যা প্রত্যেক ডিজাইনারের পাশাপাশি প্রত্যেকটি আধুনিক ফ্রেমওয়ার্ক এবং সিএমএস কে মেনে চলতে হয়:

১। ফ্লুইড গ্রিড

ফ্লুইড গ্রিড হচ্ছে রেসপনসিভ ডিজাইনের মূল কেন্দ্রবিন্দু। গ্রিড এর মাধ্যমে আপনি আপনার পেইজে এলিমেন্ট/উপাদানসমূহকে সমান্তরাল করতে পারবেন এবং দেখতে আকর্ষণীয়ভাবে বেশ কিছু অনুক্রম অনুসারে সাজাতে পারবেন। ফ্লুইড গ্রিডের স্কেল ব্যবহারকারীর স্ক্রীন সাইজ এর উপর নির্ভরশীল এবং এর উপর ভিত্তি করেই সকল পেইজ এলিমেন্টগুলো বিভিন্ন স্ক্রীন সাইজের সাথে মানিয়ে যায়। যদিও ডিজাইন এর ক্ষেত্রে গ্রিডের ব্যবহার সবসময়ই ছিলো কিন্তু ওয়েব ডিজাইন এর ক্ষেত্রে ডিজাইনার এবং ডেভেলপারদেরকে ওয়েবসাইট ডিজাইনে সহায়তার জন্য সিম্পল রেস্পন্সিভ গ্রিডসমুহকে বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। এইসব প্রাথমিক রেস্পন্সিভ গ্রিডের পর, ওয়েবে অনেক ধরনের রেস্পন্সিভ ফ্রেমওয়ার্ক দেখা গিয়েছে এবং যার প্রায় সবগুলোই ফ্লুইড গ্রিডের উপর ভিত্তি করে তৈরি।

Responsive Grid

আজকাল নেটিভ গ্রিডসমূহ সিএসএসে সিএসএস গ্রিড লেআউট মডিউল নামে ব্যবহৃত হচ্ছে। এসব গ্রিডের জন্য ব্রাউজার সাপোর্ট যুক্ত হচ্ছে যাতে ওয়েব ডিজাইনাররা কোন ফ্রেমওয়ার্কের উপর নির্ভর না করেই ফ্লুইড রেস্পন্সিভ গ্রিড ব্যবহার করতে পারে।

২। মিডিয়া কুয়েরি

মিডিয়া কুয়েরি সমূহ ২০০০ সাল থেকেই উপস্থিত ছিল কিন্তু ২০১২ সালের আগে এগুলো W3C এর প্রস্তাবিত মানদণ্ড অনুযায়ী ছিল না। ফ্লুইড গ্রিডের মতই মিডিয়া কুয়েরি রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইনের পেছনের একটি প্রযুক্তি যা রেস্পন্সিভ ডিজাইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ খুঁটি। মিডিয়া কুয়েরীর দ্বারা কোনও ওয়েবসাইটে স্ক্রিন সাইজ সম্পর্কিত তথ্যসমূহ একত্র করে রাখা সম্ভব হয়, ফলে যেকোনো ভিজিটর তাঁদের পছন্দমত স্ক্রিনে ওয়েবসাইট ভিজিট করতে পারে। এই তথ্যের কারণে ভিন্ন ভিন্ন শর্তের অধীনে ভিন্ন ভিন্ন স্ক্রিন সাইজ অনুযায়ী সিএসএস স্টাইল লোড হয়ে থাকে।

৩। রেস্পন্সিভ ইমেজ এবং মিডিয়া

যদি আপনি শুধুমাত্র টেক্সট নিয়ে কাজ করেন, তাহলে রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইন তৈরি করা বেশ সহজ। তবে, আধুনিক ওয়েবসাইটে ইমেজ এবং ভিডিওর মত অনেক ধরণের মিডিয়া যুক্ত করা হয়, যা অনেক সময় জটিল মনে হতে পারে।

ইমেজ এবং অন্যান্য মিডিয়া ফাইল পরিচালনা করার সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে ইমেজ অথবা মিডিয়া ফাইল ডাইমেনশনের পরিবর্তে max-width প্রপার্টি ব্যবহার করা। যেমন নিচের উদাহরণে দেখা যাচ্ছে:

আপনি যদি অন্যান্য মিডিয়া টাইপ যুক্ত করতে চান, তাহলে স্টাইল করার পদ্ধতিটি আরো সুক্ষ্ম ও জটিল হয়ে উঠবে। এক্ষেত্রে height প্রপার্টি কাজ করবে না, তাই কোনও কনটেইনারের নিচে প্যাডিং যুক্ত করতে হবে, তারপর মিডিয়াটি সেই কণ্টেইনারের ভিতর স্থাপন করতে হবে। এই পদ্ধতিটি সর্বপ্রথম ২০০৯ সালে থিয়েরি কোবলেন্টেজ প্রকাশিত করেন, এবং এখন পর্যন্ত এটাই অন্যান্য মিডিয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে শক্তিশালী উপায়।

একবার আপনি আপনার CSS কোডে এটি যুক্ত করলে, সমস্ত চিত্র এবং মিডিয়া ফাইলগুলি আপনার ব্রাউজারের সাথে স্কেল করবে এবং তাদের কনটেইনারের বাইরে প্রসারিত হবে না।

এই পর্যন্ত আমরা রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইনের মূলনীতিগুলো বর্ণনা করেছি, এবার চলুন এর সুবিধা ও অসুবিধাগুলো আলোচনা করি।

রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইনের সুবিধা

রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইনের অনেক সুবিধা আছে। এটা আপনার এসইও, কনভার্সন রেট, ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এবং আপনার ব্যবসার বিকাশের ক্ষেত্রে অবদান রাখতে পারে, এমন অনেক কিছুর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এখানে রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইনের ১২ টি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য ও সুবিধা দেয়া হলো।

১। উন্নত ইউজার এক্সপেরিয়েন্স

একটি রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইট আরও ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করে। ইউজার এক্সপেরিয়েন্স বাড়ার সবচেয়ে ভালো সূচক হচ্ছে ব্যবহারকারী কতক্ষন আপনার ওয়েবসাইটে থাকছে, সেই বিষয়টি। আপনার ওয়েবসাইটটি যদি পরিচালনা করাই কঠিন হয়, ব্যবহারকারীকে যদি অনবরত জুম করে দেখতে হয় তাহলে তারা আপনার ওয়েবসাইটে বেশীক্ষন থাকবে না।

কিন্তু আপনার ওয়েবসাইটটি যদি স্ক্রিন সাইজের পরিবর্তনের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়ে যায়, তাহলে আপনার ভিজিটরদের মেনু, লিঙ্ক বাটন এবং ফর্ম পূরণ করতে কোনও সমস্যা হবে না। ফলে তারা আরো ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স পাবে এবং আপনার সাইটে আরো বেশি সময় কাটাবে।

ইউজার এক্সপেরিয়েন্স এবং সাইটের ব্যবহারযোগ্যতা বাড়ার সাথে সাথে মুখে মুখে রেফারেলও বৃদ্ধি পাবে এবং আপনি নতুন নতুন কাস্টমার পাবেন।

২। মোবাইল ট্রাফিক বৃদ্ধি পাবে

পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ২০১৭ সালের শেষ তৃতীয়াংশে, বিশ্বের ৫২% ওয়েব ট্রাফিক মোবাইল ডিভাইস থেকে এসেছে। যা আসলে সমস্ত ইন্টারনেট ট্রাফিকের অর্ধেক এবং এর ফলে বোঝা যায় রেস্পন্সিভ ডিজাইনকে কখনই উপেক্ষা করতে পারবেন না। মোবাইল ডিভাইস থেকে কি পরিমাণ দর্শক আপনার ওয়েবসাইটে আসে এবং কত সময় তারা আপনার সাইটে ব্যয় করে তা তদন্ত করে বের করুন। তারপর রেস্পন্সিভ ডিজাইন ইমপ্লিমেন্ট করে দুটো সংখ্যাকে তুলনা করে মূল পরিবর্তনটি বের করতে পারেন। যখন আপনার ওয়েবসাইট সব ধরণের ভিউপোর্টে দেখা যাবে, তখন আপনি মোবাইল ডিভাইস থেকে ট্রাফিক বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি লক্ষ্য করবেন এবং একই ব্যবহারকারী আপনার ওয়েবসাইটে অনেক সময় ধরে থাকবে।

৩। দ্রুত ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করা যাবে

কিছু দিন আগেই, ওয়েবসাইটের একটি আলাদা ভার্সন তৈরি করা হতো, যা মোবাইলের মত ছোট স্ক্রিন থেকে এক্সেস করার জন্য বিশেষভাবে বানানো হতো। তবে, আপনার ওয়েবসাইটের জন্য একটি মোবাইল ভার্সন ডেভেলপ করা রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইট ডেভেলপ করার চেয়ে অধিক সময় সাপেক্ষ যা যেকোনো ডিভাইস থেকেই ভিজিটররা খুব সহজে দেখতে পারে। মোবাইল ওয়েবসাইটের আরও একটি অসুবিধা হচ্ছে এর কারণে আপনার ব্যয় আরো বেড়ে যাবে, কারণ ডেভেলপারকে একটার বদলে দুটো সাইট বানাতে হবে।

৪। সহজ রক্ষণাবেক্ষণ

উপরের পয়েন্ট ধরেই বলা যায় ওয়েবসাইট রক্ষনাবেক্ষন করা আরো সহজতর হবে। দুটো ভার্শনের ওয়েবসাইটে আপনার স্টাফ অথবা ডেভেলপমেন্ট টিমকে আলাদা করে দুটো ওয়েবসাইটের জন্য সময় দিতে হবে। অথচ রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে, আপনার কর্মীরা ওয়েবসাইট রক্ষনাবেক্ষনের পিছনে কম সময় ব্যয় করবে এবং মার্কেটিং, A/B টেস্টিং, কাস্টমার সার্ভিস, প্রোডাক্ট অথবা কনটেন্ট ডেভেলপমেন্ট ও অন্যান্য কাজে আরো বেশি সময় ব্যয় করার সুযোগ পাবে।

৫। ডুপ্লিকেট কনটেন্ট পেনাল্টিতে পড়ার সম্ভাবনা কম

আপনার ওয়েবসাইটের দুটি সংস্করণের সাথে মনে রাখার মত আরেকটি বিষয় হল যে, আপনি মূলত সদৃশ সামগ্রী/কন্টেন্ট তৈরি করছেন। যদিও অনুসন্ধান ইঞ্জিনগুলি দিনে দিনে আরো বেশি স্মার্ট হয়ে উঠছে, কিন্তু এখনও এগুলো, কোন ওয়েবসাইট সংস্করণটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ তা বুঝতে পারেনা। আপনি যদি আপনার সাইটের একটি মোবাইল সংস্করণ ব্যবহার করেন, তবে URL টি আলাদা হলেও আপনার বিষয়বস্তু/কন্টেণ্ট একই থাকবে।

এটি আপনার ওয়েবসাইটের উভয় সংস্করণকে সার্চ ইঞ্জিনে নিচের দিকে র‍্যাঙ্কিং করতে পারে, কারণ সার্চ ইঞ্জিন কোন কন্টেন্ট সর্বাধিক প্রাসঙ্গিক তা বুঝতে পারে না। আপনি যদি আপনার সাইটের উভয় সংস্করণের জন্য ভাল র‍্যাঙ্ক চান, আপনাকে দুটি পৃথক এসইও কৌশল এবং প্রচারাভিযান তৈরি করতে হবে এবং আপনার সাইটের ডেস্কটপ এবং মোবাইল সংস্করণ উভয়ের জন্য আসল এবং অনন্য সামগ্রী তৈরির ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করতে হবে।

দুইটি পৃথক এসইও কৌশল থাকার কারণে অনেক বেশি সময় এবং অর্থ প্রয়োজন, বেশিরভাগ ওয়েবসাইট মালিক ডেস্কটপ সংস্করণের দিকে নির্দেশ করে তাদের মোবাইল ওয়েবসাইটে একটি ক্যাননিক্যাল ট্যাগ ব্যবহার করে। ফলস্বরূপ, বেশিরভাগ পৃথক মোবাইল ওয়েবসাইটগুলি সার্চ ইঞ্জিনগুলিতে একেবারেই দেখায় না।

রেস্পন্সিভ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে উপরের সবগুলো সমস্যা সফলভাবে এড়ানো যায়। প্রতিক্রিয়াশীল বা রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইনের ব্যাপারে যদি আপনার কোন সন্দেহ থাকে তাহলে এই একটি সুবিধাই তা দূর করতে যথেষ্ট।

৬। সরল ওয়েবসাইট বিশ্লেষণ

যদি আপনার ওয়েবসাইটের একই রকম দুটি ভার্সন থাকে, তাহলে কোথা থেকে আপনার ভিজিটররা আসে এবং কিভাবে তারা আপনার কন্টেন্টসমূহ ব্যবহার করে থাকে তা বের করতে আপনাকে দুই সেট ওয়েবসাইট অ্যানালিটিক্স ট্র্যাক করতে হবে। এর মানে হচ্ছে, একাধিক সাইনআপ এবং থ্যাংক ইউ পেজ ও কনভার্শন পয়েন্ট, ফানেল এবং অন্যান্য বিষয়গুলো আপনাকে আলাদাভাবে ট্র্যাক করতে হবে।

অপরদিকে রেসপনসিভ ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আপনি আপনার ওয়েবসাইটের বর্তমান অবস্থা খুব সহজভাবে মাত্র এক সেট ডাটা ব্যবহার করেই বের করতে পারবেন। এই অবস্থাতেও আপনি কোন ডিভাইস থেকে ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইট ব্যবহার করছে, কোন পেইজ থেকে তারা চলে যাচ্ছে এবং কতক্ষণ সময় তারা আপনার সাইটে থাকছে তার হিসাব নিকাশ বের করতে পারবেন, কিন্তু এ কাজে আপনাকে সঠিক চিত্র বের করতে একাধিক তথ্য ও রিপোর্টসমূহ দেখতে হবে না‌।

৭। ওয়েবসাইট লোডিং হওয়ার সময় কমবে

যেসব ওয়েবসাইট রেস্পন্সিভ সেগুলো সাধারণত সমস্ত ডিভাইসেই খুব দ্রুত লোড হয়। কিন্তু বিশেষ করে স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে সবচেয়ে বেশি দ্রুত গতিতে লোড হয়ে থাকে। এজন্য রেস্পন্সিভ ইমেজ এবং ফ্লুইড গ্রিডকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ দেওয়া যেতে পারে, কারণ এর ফলে কোন পেইজ লোড হতে খুব কম সময় লাগে যা আপনার ইউজারদের পেইজ ভিজিট করার সময়ের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। রিসার্চ অনুসারে, ৫৩% মোবাইল ভিজিটর কোন পেইজ লোড হতে ৩ সেকেন্ডের বেশি সময় লাগলে সেই পেজটি ছেড়ে চলে যায়। একই রিসার্চে দেখা গেছে যে, যেসব ওয়েবসাইট দ্রুত লোড হয় তাতে অনেক সময় ধরে ভিজিটররা থাকে এবং এর ফলে কনভার্শন রেট বৃদ্ধি পায়। এর ফলে রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন এর গুরুত্ব সম্পর্কে আমরা খুব সহজেই অনুধাবন করতে পারি।

৮। নিন্ম বাউন্স হার

বাউন্স রেট দ্বারা বোঝানো হয় কত পার্সেন্ট ভিজিটর কোন ওয়েবসাইটের মাত্র একটি পেইজ দেখার পর তা ছেড়ে চলে গেছে। আগেই আমরা উল্লেখ করেছি যে রেসপনসিভ ওয়েব সাইট এর মানে হচ্ছে ভিজিটররা আপনার ওয়েবসাইটে অনেক সময় ধরে থাকবে যা আপনার বাউন্স রেট কমাবে। এর ফলে ভিজিটররা আরো বেশি পেইজে ক্লিক করতে প্ররোচিত হবে এবং আপনার সাইটের অন্যান্য পাতাসমূহ পড়বে ও আপনি যে সব অফার দিয়েছেন তা বিস্তারিতভাবে দেখতে আগ্রহী হবে।

৯। উচ্চ কনভার্সন রেট

আপনার সাইটে অধিক সময় ব্যয় করা এবং বাউন্স রেট এর পরিমাণ কম হওয়ার কারণে আপনার ভিজিটরদের জন্য ইতিবাচক ইউজার এক্সপেরিয়েন্স ও আপনার প্রতি বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে। এর ফলে কনভার্শন রেট বৃদ্ধি পাবে। কনভার্শন রেট নির্ধারিত হতে পারে আপনার নিউজলেটার এর জন্য সাইন আপ করা, ওয়েবসাইট থেকে কোন কিছু কেনা অথবা কল করার উপর ভিত্তি করে। ডেক্সটপ এর তুলনায় স্মার্টফোনের কনভার্শন রেট ৬৪% বেশি হয়ে থাকে এবং এতেই বুঝা যায় রেসপনসিভ ওয়েব সাইট কেন অবশ্যই দরকার।

১০। সার্চ ইঞ্জিনের জন্য ভালো

রেসপনসিভ ওয়েব সাইট এর আরেকটি সুবিধা হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিনের র্যাঙ্কিং বৃদ্ধি পাওয়া। 2015 সালের এপ্রিল থেকে গুগল আপনার ওয়েবসাইটটি রেস্পন্সিভ কিনা তার উপর ভিত্তি করে সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেজে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য সমূহ প্রদর্শন করে থাকে। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ  র্যাঙ্কিং সিগনাল। যদি আপনার ওয়েবসাইট রেস্পন্সিভ না হয় তাহলে আপনার ওয়েবসাইটের তথ্য সমূহ সার্চ ইঞ্জিন রেজাল্ট পেইজের নিচের দিকে দেখাবে। যদি এটা মোবাইল ফ্রেন্ডলি টেস্ট অনুযায়ী রেস্পন্সিভ হতো, তাহলে এটা পেজের শুরুতে দেখাতো।

SEO improves
রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন এর আরেকটি সুবিধা হচ্ছে সার্চ ইঞ্জিন র্যাঙ্কিং বৃদ্ধি পাওয়া। (সূত্র: Envato Elements)

১১। সোশ্যাল শেয়ারিং বৃদ্ধি পাওয়া

সঠিকভাবে করা হলে রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন আপনার কনটেন্ট এর সোশ্যাল শেয়ার বাড়াতে সাহায্য করবে। এটা রেসপনসিভ ওয়েব ডিজাইন এর আরেকটি সুবিধা। রেস্পন্সিভ কনটেন্ট এর সাথে সাথে রেস্পন্সিভ সোশ্যাল মিডিয়া বাটনের ব্যবহার আপনার সাইটের পেজসমূহ ছোট স্ক্রিনেও শেয়ার করা সহজ করে তুলবে। এটা আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়িয়ে তুলতে এবং নতুন অডিয়েন্স পেতে সাহায্য করবে যার ফলে আরো বেশি ট্রাফিক ও কনভার্শন পাবেন। একই সাথে সোশ্যাল সিগনাল আপনার সার্চ ইঞ্জিন রেংক এর উপর পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলবে কারণ সার্চ ইঞ্জিন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়া এনগেজমেন্ট ও সার্চ ডিমান্ড বুঝতে পারে।

১২। আরো ভালো ব্যাকলিঙ্ক

পরিশেষে আরও উল্লেখ করা প্রয়োজন রেসপনসিভ ওয়েব সাইট ব্যাকলিংক তৈরির ক্ষেত্রেও আপনাকে সহায়তা করতে পারে। ব্যাক লিংক সমূহ এসইও কৌশল এর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কারণ এটি সার্চ ইঞ্জিনকে বুঝতে সাহায্য করে যে অন্যান্য ওয়েবসাইট আপনার সাইটকে একটি উল্লেখযোগ্য তথ্য সূত্র হিসেবে কতটা গভীরভাবে বিবেচনা করে থাকে। যদি আপনার সাইটটি রেস্পন্সিভ না হয়, তাহলে অন্যান্য ওয়েবসাইট সমূহ আপনার সাথে লিংক তৈরি করতে আগ্রহী হবে না। কারন সর্বোপরী এমন একটি ওয়েবসাইটের সাথে লিংক করা ভালো নয় যা ভালো ইউজার এক্সপেরিয়েন্স প্রদান করে না। এর ফলে তাদের সাইটের রেপুটেশন কমে যাবে।

রেস্পন্সিভ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনার সেবার মান উন্নত করুন

দেখতেই পাচ্ছেন আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে রেস্পন্সিভ ওয়েব ডিজাইন অসংখ্য ভাবে সুবিধা প্রদান করে থাকে। যদি আপনার ওয়েবসাইট এখনও রেস্পন্সিভ না হয়ে থাকে তাহলে পুনরায় এটি নতুন ভাবে ফ্লুইড লেআউট দ্বারা ডিজাইন করা আপনার প্রথম কর্তব্য। এর ফলে আপনি বুঝতে পারবেন আপনার কোন পেইজ এর উপাদান গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোন পেইজটি অপসারণ করতে হবে। এবং আপনি আপনার পেইজে মোট কয়টি পাতা রাখতে চান।

পুনরায় ডিজাইন করার দিকনির্দেশনা সম্পর্কে পরিষ্কার হবার পর আপনি সঠিক প্ল্যাটফর্ম, থিম অথবা টেমপ্লেট আপনার সাইটের জন্য বেছে নিতে পারেন। এরপর আপনি এই টিউটোরিয়াল সিরিজে প্রদত্ত টিপসগুলো আপনার সাইটে বাস্তবায়ন করতে পারেন এবং আপনার সাইটের কনভার্শন রেট, এনগেজমেন্ট রেট, এসইও এবং অন্যান্য বিষয়গুলো আরও উন্নত করতে পারেন।

Advertisement
Advertisement
Looking for something to help kick start your next project?
Envato Market has a range of items for sale to help get you started.