Cyber Monday Sale 40% off unlimited courses & creative assets! 40% off unlimited assets! Save Now
Advertisement
  1. Business
  2. Productivity

একটা একটা করে কাজ শেষ করা—মাল্টিটাস্কিং বন্ধ করুন

by
Read Time:12 minsLanguages:

Bengali (বাংলা) translation by Arnab Wahid (you can also view the original English article)

আজকের দিনে সবাই মাল্টিটাস্কিং নিয়ে ব্যস্ত। সবাই সব কাজ একসাথে করছে, ইমেইল করা, এপ চেক করা, টুইটার চেক করা, নিউজ সাইট ব্রাউজ করা ইত্যাদি ইত্যাদি।

কিন্তু আমাদের ব্রেইন মাল্টিটাস্কিং করার জন্য উপযুক্ত নয়।

এটা কিন্তু আমার মতামত নয়। এটা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত। মাল্টিটাস্কিং করার তাড়ায় আমাদের কাজের এফিশিয়েন্সি কমে যায়।

তাই আমরা এই টিউটোরিয়ালে দেখবো মাল্টিটাস্কিং বাদ দিয়ে কিভাবে প্রোডাক্টিভিটি বৃদ্ধি করা যায়।

মাল্টিটাস্কিং এর যুগে, একটা কাজে ফোকাস করা বড়ই দুষ্কর কাজ। কিন্তু কিছু ট্রিক ফলো করে আমরা এই সমস্যার সমাধান করতে পারি।

১। প্রথমে উপলব্ধি করা যে আপনি মাল্টিটাস্ক করতে পারেন না।

আসুন দেখি এই বিষয়ে গবেষণা থেকে কি জানা গেছে।

মাল্টিটাস্কিং আসলে করা সম্ভব না। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন আমরা মনে করি যে আমরা মাল্টিটাস্কিং করছি, তখন আসলে আমরা একটা কাজে ফোকাস করছি কোন একটা নির্দিস্ট সময়, কিন্তু সেই ফোকাস আমরা একাধিক কাজে দ্রুত শিফট করছি।

একাধিক কাজে বার বার একটা একটা করে কাজের দিকে ফোকাস করা সত্ত্বেও আমাদের মনে হয় যে আমরা আসলে সবকিছু একসাথে করছি। কিন্তু দ্রুত ফোকাস শিফট করতে আমরা সক্ষম হলেও, একটার বেশি কাজ একই সাথে করতে আসলে আমরা সক্ষম নই

কিন্তু ফোকাস শিফট করতে গিয়ে আসলে আমাদের কর্মদক্ষতা প্রায় ৪০% স্লো হয়ে যায়গবেষণায় দেখা গেছে মাল্টিটাস্কিং করতে গিয়ে মানুষের আইকিউ প্রায় ১০ পয়েন্ট কমেও যায়।

কি মনে হচ্ছে এখন?

যারা মনে করে যে তারা মাল্টিটাস্কিং করতে পারে, তাদের উপর এই এক্সপেরিমেন্ট করে দেখা গেছে যে আসলে তাদের পারফর্মেন্স অন্য নরমাল মানুষের চেয়ে খারাপ।

সাইকোলজি প্রফেসর ক্লিফোর্ড নাস এর মতেঃ

The research is almost unanimous, which is very rare in social science, and it says that people who chronically multitask show an enormous range of deficits. They're basically terrible at all sorts of cognitive tasks, including multitasking.

২। দিনের শুরু ফোকাসের সাথে করুন

যেহেতু মাল্টিটাস্কিং এ আমাদের কোন উপকার হচ্ছেনা, এটা আমাদের বন্ধ করা উচিত, তাই না?

কিন্তু যারা বন্ধ করার ট্রাই করেছেন, তারা হয়ত জানেন যে এটা করা তত সহজ না।

তাই আমরা এখন দেখবো কিছু উপায়, যেগুলো এই পরিবর্তনে সাহাজ্য করবে।

দিন শুরু করার আগে সেই দিন কি করবেন তা কয়েক মিনিট সময় নিয়ে প্ল্যান করুন। দিন প্ল্যান করা মানে এই না যে দিনে কি কি করবেন তা বাজারের লিস্টের মত লিখে নিতে হবে।

পারাটো প্রিন্সিপাল বা 80/20 রুল বলে যে ৮০% সাকসেস ২০% এফোর্ট থেকে আসে। এখন ভাবুন কোন কাজ আপনি ২০% এফোর্ট দিয়ে করতে পারবেন। সেই দুই তিনটি কাজ ওই দিনে সবার আগে করে ফেলার চেস্টা করুন।

কোন কাজের জন্য কত সময় লাগতে পারে, তাও আন্দাজ করার চেস্টা করুন। এই কাজে সুবিধার জন্য নোটবুক বা অর্গানাইজার ব্যবহার করতে পারেন।

৩। যতটা সম্ভব ইমেইল চেক করা থেকে বিরত থাকুন।

যখনই আপনি অনলাইনে যান, মেইল চেক করেন, দেখেন যে শতশত নতুন মেইল ও মেসেজ পেন্ডিং পড়ে আছে। সবাই চেস্টা করে সেগুলো রিপ্লাই দেয়ার। এই ক্ষেত্রে শুধু জরুরী মেইল গুলো রিপ্লাই দিন, যেগুলো না দিলেও হবে, সেগুলো এভয়েড করুন।

Non-Multitasking Hipster Office Non-Multitasking Hipster Office Non-Multitasking Hipster Office
Envato Unstock Photo.

দিনের শুরুতেই মেইল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে গেলে কাজের ফোকাস সেখানেই নষ্ট হয়ে যায়।

তাই মেইল দিনের সব কাজ শেষ করার পর নিয়ে বসুন।

আগে জরুরী কাজ ফোকাস সহকারে করে ফেললে তা আপনি দ্রুত করতে পারবেন।

এরপর মেইল নিয়ে বসার চেষ্টা করুন। আর এই কাজে ৪৫ মিনিট থেকে ২ ঘন্টার বেশি সময় না নেয়ার চেষ্টা করবেন। অনেকেরই হয়ত এই পরামর্শ পছন্দ হবে না। সবাই সকালেই মেইল চেক করতে চায় সবার আগে। কিন্তু এতে যে আপনার ফোকাস নষ্ট হবে, এতে কোন সন্দেহ নেই।

৪। নোটিফিকেশন অফ করে রাখা।

ইন্টারনেট এডিকশনের কারনে আমাদের অনেক সময় নষ্ট হয়।

একটা নোটিফিকেশন চেক করতে গড়ে আমাদের প্রায় ১০ মিনিট করে সময় নষ্ট হয়।

তাই ঝট করে নোটিফিকেশন দেখে নেয়া আসলে ঝট করে শেষ করে ফেলা যায় না।

সময় নষ্ট করা বন্ধ করতে সব নোটিফিকেশন অফ করে রাখুন। সময় মত নিজেই দিনে একবার সব চেক করে নেবেন, নোটিফিকেশনের উপর নির্ভর করতে হবেনা।

জরুরী কল বা মেইল পাবেন না এই কাজ করলে, যদি এই চিন্তায় থাকেন, তবে ফ্যামিলি ও ফ্রেন্ডসদের জন্য এক্সেপশনাল রুল সেট করে নিতে পারেন। 

৫। আনপ্লাগ

এর মানে হচ্ছে মোবাইল ও ইন্টারনেট থেকে দূরে থাকা

একটু আগেই যেমন বললাম, ইন্টারনেট এডিকশন আমাদের যুগে অনেক বড় একটা সমস্যা।

অহেতুক অনেক অকারণে আমরা সময় নষ্ট করি।

তাই কাজের সময় ইন্টারনেট ও মোবাইল ডিসকানেক্ট করে রাখলে কাজের ইম্প্রুভ করা সম্ভব। যারা মাল্টিটাস্কিং করতে ব্যস্ত, তাদের ডেক্সটপ সবসময় দেখতে অনেকটা এমন দেখা যায়।

Screenshot showing multiple tabs open at onceScreenshot showing multiple tabs open at onceScreenshot showing multiple tabs open at once

কিন্তু এত ক্লাটারের মধ্যে কাজ আর শেষ করা হয়না। অনলাইনে থাকা মানেই হচ্ছে কাজে ফোকাস করা আর সম্ভব না।

যদি কাজের জন্য ইন্টারনেটে কানেক্ট থাকা আবশ্যক হয়, তবে তো থাকতে হবেই। কিন্তু অফলাইনে যদি কাজ করা সম্ভব হয়, তাহলে অনলাইন থেকে ডিস্কানেক্ট করে করলে সেটা আরও এফিশিয়েন্টলি করা সম্ভব।

তাই এমন কাজ যেখানে অনলাইনে থাকা লাগবে না, সেসব কাজ অফলাইনে থাকতেই করে নেয়ার চেস্টা করুন, ইন্টারনেট ততক্ষণ ডিস্কানেক্ট রাখুন। এই কাজে সুবিধার জন্য আপনি ট্র্যাডিশনাল অর্গানাইজার ও ক্যালেন্ডারের ব্যবহার করতে পারেন।

আর অফলাইনে কাজ করা সম্ভব না হলে, অন্তত ফেসবুক টুইটারের জন্য সময় নষ্ট করা ওয়েবসাইট সব ব্লক করে রাখুন।

৬। কাজে ব্রেক নেয়া

কাজের ফাঁকেফাঁকে ব্রেক না নেয়া মাল্টিটাস্কিং এর মতই খারাপ । তাই কাজের ফাঁকেফাঁকে বিরতি নিন।

এতে করে কাজের ফোকাস বাড়ে।

ব্রেক না নিয়ে টানা কাজ করলে কাজের উপর মানুষের ফোকাস করে যায়। গবেষণায় দেখা গেছে যে ৫২ মিনিট কাজের জন্য মানুষের ১৭ মিনিট বিরতি নেয়া উচিত। অথবা পমোডোরো টেকনিকের মত প্রতি ২৫ মিনিট কাজের পর ৫ মিনিট ব্রেক নিতে পারেন। এই টেকনিক নিয়ে আমাদের এই টিউটোরিয়াল পড়ে দেখতে পারেন।

৭। অন্যান্য কাজেও ফোকাস রাখুন

এতক্ষণ আমরা যেসব ট্রিকস দেখলাম, তাতে করে কাজের প্রোডাক্টিভিটি অনেকগুনে বাড়ানো সম্ভব।

কিন্তু একটা কাজই করা, আর অন্য সব ভুলে থাকা আসলে সব সময় সম্ভব না।

যেমন বিজনেসের স্ট্রেসফুল পরিবেশে একসাথে অনেক কিছু নিয়ে কাজ করতে হয়। এমন পরিবেশে একটা রিজনেবল ব্যালেন্স খুঁজে নিতে হবে।

যদিও সব কাজ প্রায়োরিটি না। তা সত্ত্বেও সেসবের দিকেও নজর রাখতে হয়। সেগুলো করার জন্যও আপনি আগাম টাইম এলট করে নিতে পারেন।

পরবর্তী ধাপ

এই টিউটোরিয়ালে আমরা দেখলাম যে মাল্টিটাস্কিং আসলে কাজের কোন উপকারে আসেনা। এর চেয়ে ধাপে ধাপে সব কাজ করা অনেক ভালো। এবং মাল্টিটাস্কিং বন্ধ করে ভালোভাবে কাজ করার কিছু টিপসও আমরা দেখেছি।

সুতরাং, আমরা আসলে মাল্টিটাস্কিং ছাড়াই দিনের জরুরী কাজগুলো আরও ভালোভাবে করে নিতে পারি।

এই ব্যাপারে আপনার মতামত কমেন্টে জানান।

Advertisement
Advertisement
Looking for something to help kick start your next project?
Envato Market has a range of items for sale to help get you started.