Birthday Sale! Up to 40% off unlimited courses & creative assets Birthday Sale! Save up to 40%!
Advertisement
  1. Business
  2. Careers
Business

সঠিক দৈর্ঘ্যের সুসংগঠিত জীবনবৃত্তান্ত লেখার পদ্ধতি

by
Difficulty:BeginnerLength:LongLanguages:
This post is part of a series called How to Create a Great Resume (Ultimate Guide).
19 Phrases You Need to Cut From Your Resume Right Now
Best Resume Format: The Ultimate Guide to PDF vs Word

Bengali (বাংলা) translation by Syeda Nur-E-Royhan (you can also view the original English article)

আমি ঠিক জানি না কখন বা কিভাবে চালু হয়েছে, তবে বেশ কিছু বছর আগে কেউ একজন আচমকাই নিয়ম করে বসে যে জীবনবৃত্তান্ত সব সময় এক পাতার হতে হবে। 

এক পাতার বেশি আবেদন পত্র সময়ের অপচয় ছাড়া আর কিছুই না। বড়জোর ব্যর্থতার চাবিকাঠি হতে পারে।

আজকাল আবেদনকারীরা প্রায়ই এই নিয়ম ভঙ্গ করে পার পেয়ে যান।

কাজেই জীবনবৃত্তান্ত আসলে ঠিক কতোটা লম্বা হওয়া উচিত?

জীবনবৃত্তান্তের দৈর্ঘ্য কতো বড় হওয়া উচিত সেই প্রশ্নের উত্তর দেওয়া একটু কঠিন। এমনকি নিয়োগকর্তা এবং চাকরিদাতাদেরও যার যার ভিন্ন পছন্দ রয়েছে। অবাক হওয়ার কিছুই নেই এতে।

‘খেলায় ফিরে আসা: বিরতির পর জীবনবৃত্তান্ত তৈরির কৌশল’ বইয়ের লেখক ড. হেদার রথবাওয়ার-ওয়ানিশ বলেন,

“আপনি যদি সদ্য স্নাতকোত্তর হয়ে থাকেন তাহলে এক পাতার জীবনবৃত্তান্ত আপনার শিক্ষা ও কর্মজীবনের ইতিহাস তুলে ধরার জন্য যথেষ্ট।  অন্যদিকে আপনি যদি পনেরো বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করে থাকেন তাহলে দুই পাতার একটা ডকুমেন্ট আপনার লাগবেই। আমার গড়পরতা হিসেবে প্রতি ১০ বছরের চাকরির ইতিহাসের জন্য এক পাতা বরাদ্দ রাখা উচিত”।

পেশাগত পরামর্শদাতা এবং ওয়াল স্ট্রীট প্রফেশনালস সারভাইভাল গাইডের লেখক রয় কোহেন বলেন,

জীবনবৃত্তান্তের দৈর্ঘ্যের প্রশ্ন আসলে বলবো যতো ছোট ততো ভালো। কিন্তু তাই বলে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দিয়ে নয়। আপনার বয়োজ্যেষ্ঠতা, অভিজ্ঞতা, কারিগরি যোগ্যতা, এবং কতগুলো সংস্থার জন্য কাজ করেছেন সেগুলোর ভিত্তিতে নির্ধারণ করুন কতোটুকু তথ্য যোগ করবেন বা বাদ দিবেন। 

তিনিও একমত হয়েছেন যে সদ্য স্নাতকোত্তর চাকরিপ্রার্থীদের ওয়াল স্ট্রীট ব্যবসায়ীদের মতো এক পাতার ডকুমেন্ট তৈরি করাই শ্রেয়। কারণ তাদের কাজের ব্যস্ততার কারণে মনোযোগ দেওয়ার সময় ও সুযোগ কম থাকে। 

ওসরাম সিলভানিয়াতে ট্যালেন্ট অ্যাকুইজিশন ম্যানেজার মৌরীন ক্রফোর্ডহেন্টজ স্বল্প তথ্য বা কোন রকম তথ্য ছাড়া তৈরি সংক্ষিপ্ত জীবনবৃত্তান্ত একদমই অপছন্দ করেন। বিশেষ করে যদি সেখানে কল করে বিস্তারিত তথ্য জেনে নিতে বলা হয়।

জীবনবৃত্তান্ত সব হাত ঘুরে যেখানে যেয়ে পৌঁছায় তা সবসময় নিয়োগকর্তারাই হন না। তারা তাদের ক্লায়েন্টদের কাছেও জীবনবৃত্তান্ত পাঠিয়ে দেন যাতে করে তারা নিজেরাও পছন্দের বিষয়গুলো জানাতে পারে।

how long is a resume supposed to be
জীবনবৃত্তান্তের সঠিক দৈর্ঘ্য: জীবনবৃত্তান্ত কতোখানি লম্বা হওয়া বাঞ্ছনীয়? (গ্রাফিক সোর্স)

জীবনবৃত্তান্তের দৈর্ঘ্য নির্ধারণ করার উপযুক্ত নির্দেশনা হচ্ছে: এটি যেন এতোটুকু ছোট হয় যাতে পুরোটা পড়তে খুব বেশি বেগ পেতে না হয় আবার এতোটুকু বড় হয় যেন সমস্ত তথ্য যোগ করা যায়।

এই টিউটোরিয়ালে আমরা দেখব আপনার জীবনবৃত্তান্ত থেকে কোন কোন জিনিস বাদ দেওয়া দিয়ে এডিট করে ছোট করা যায়। এতে করে আপনি যেই চাকরির জন্য আবেদন করছেন সেটির প্রয়োজন অনুযায়ী ছেঁটে আপনার জীবনবৃত্তান্তের দৈর্ঘ্য ছোট রাখা সম্ভব। জীবনবৃত্তান্তের দৈর্ঘ্য সম্পর্কে আপনাদের কিছু সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিবো এবং দারুণ সব পরামর্শ দিয়ে আপনাদের সাহায্য করার চেষ্টা করবো। 

৬ সেকেন্ডের নিয়ম মেনে চলুন

একটি গবেষণায় দেখা গেছে নিয়োগকর্তারা প্রতিটি জীবনবৃত্তান্ত এক নজরে দেখার জন্য গড়ে প্রায় ৬ সেকেন্ড সময় ব্যয় করেন। এক পাতার জীবনবৃত্তান্ত এত জনপ্রিয় হওয়ার এটা একটা কারণ হতে পারে।

অবশ্যই দুই পাতার চাইতে এক পাতার জীবনবৃত্তান্ত অনেক দ্রুত পড়া সম্ভব। কিন্তু তার মানে হচ্ছে এই আবেদনপত্রের উপর ভিত্তি করে একজন আবেদনকারীকে চাকরির জন্য ডেকে আনাটা যুক্তিযুক্ত কিনা তা তাঁকে আরও দ্রুত বিচার করে সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

নিয়োগকর্তারা যদি তাদের প্রয়োজনসই যোগ্য প্রার্থীর দেখা না পান তাহলে সেই এক পাতার জীবনবৃত্তান্তও আবর্জনার বাক্সে চলে যাবে। বুলেট পয়েন্ট আর বাড়তি কথার ভিড়ে আপনার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা যদি চাপা পড়ে যায় তাহলে জীবনবৃত্তান্তের দৈর্ঘ্য কোন বিষয় না। 

ব্যাপারটা ঠিক দৈর্ঘ্য কতোটুকু সেটা না, বরং আপনি কতো দ্রুত নিয়োগকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হচ্ছেন সেটিই আসল। যেহেতু আপনার হাতে সময় আছে মাত্র ছয় সেকেন্ড কাজেই আপনার পুরো আবেদনটি পড়াতে চাইলে ওই প্রথম পাতা, কিংবা আরও নির্দিষ্টভাবে বলা যায় প্রথম পাতার প্রথম এক তৃতীয়াংশ হতে হবে সেরাদের সেরা।

জীবনবৃত্তান্তের পৃষ্ঠার আদর্শ সংখ্যা কোনটি হতে পারে?

যেসব ক্ষেত্রে এক পাতার জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করতে হবে:

  • আপনি একজন সদ্য স্নাতকোত্তর এবং আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরি সম্পর্কিত অভিজ্ঞতা কম।
  • আপনি আপনার পেশা পরিবর্তন করছেন এবং নতুন পেশায় আগের চাকরির অভিজ্ঞতা কাজে লাগবে না।
  • আপনার পেশাগত কাজের অভিজ্ঞতা ১০ বছরের কম বা আপনি মোট চারজনের কম মালিকের অধীনে কাজ করেছেন।

যেসব ক্ষেত্রে দুই পাতার জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করবেন:

  • আপনি সদ্য স্নাতকোত্তর, তবে আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরির সাথে সম্পর্কিত নানান ইন্টার্নশিপ, গ্রীষ্মকালীন বা খণ্ডকালীন চাকরি, বা পাঠক্রম বহির্ভূত অনেক কাজের অভিজ্ঞতা রয়েছে।
  • আপনার চাকরিতে বিভিন্ন ধরণের প্রযুক্তিগত বা নির্দিষ্ট কোন শিল্প-সংক্রান্ত দক্ষতার প্রয়োজন রয়েছে যা সবার থাকে না।
  • আপনার পেশাগত ক্ষেত্রে কাজের অভিজ্ঞতা ১০ বছরের বেশি।
  • আপনি এমন একটি বয়োজ্যেষ্ঠ পদে রয়েছেন যেখানে আপনার কাজের পরিমাণ অনেক বেশি।
  • আপনি এমন একটি ক্ষেত্রে কাজ করছেন যেখানে বিশেষ প্রশিক্ষণ বা অর্জনের গুরুত্ব অনেক বেশি। যেমন, প্রকাশনা বা সনদপত্র।

পরিশিষ্ট: কী এবং কেন ব্যবহৃত হয়

নির্বাহী নিয়োগকর্তারা তিন থেকে চার পাতার জীবনবৃত্তান্তও পড়ে দেখতেন। এটা যদিও এখনও অনেক জায়গায় গ্রহণযোগ্য, তারপরেও হালের নিয়ম হচ্ছে পরিশিষ্টসহ দুই পাতার জীবনবৃত্তান্ত পাঠানো।

অ্যাডেনডাম বা পরিশিষ্ট (বহুবচন: অ্যাডেনডা) হচ্ছে আপনার জীবনবৃত্তান্তের সাথে পাঠানোর জন্য বা সাক্ষাৎকারের সময় হাতে হাতে দেওয়ার জন্য তৈরি এক পাতার একটি ডকুমেন্ট। জীবনবৃত্তান্তে একজন প্রার্থীর মূল দক্ষতাগুলো তুলে ধরা হয়, অন্যদিকে পরিশিষ্টে সেই দক্ষতাগুলোর সংক্ষিপ্ত বিবরণ থাকে।

আপনার পেশাগত কর্মক্ষেত্রের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে তুলে ধরতে পরিশিষ্ট ব্যবহার করা যায়। এমন অনেকগুলো বিষয়ের মধ্যে রয়েছে:

  • ওয়ার্ক প্রজেক্ট বা কেস স্টাডি
  • প্রযুক্তিগত দক্ষতা
  • সফটওয়্যার সংক্রান্ত জ্ঞান
  • যন্ত্রপাতি পরিচালনার দক্ষতা
  • যে সমস্ত ক্লাস বা সেমিনারে শিক্ষা গ্রহণ করেছেন
  • প্রশিক্ষণ
  • নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতা

পরিশিষ্টের মধ্যে এই বিষয়গুলো আলাদাভাবে উল্লেখ করলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সম্মিলিত অবদান যুক্ত করার মতো যথেষ্ট জায়গা থাকবে। আবেদনকারী তার আবেদনপত্রের সাথে কোন বিষয়ের উপর পরিশিষ্ট পাঠাবেন সেটি নির্বাচন করার স্বাধীনতাও থাকে।

আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরির প্রয়োজন অনুযায়ী আপনার জীবনবৃত্তান্তটি ছোট করার উপায় কী?

আপনার জীবনবৃত্তান্ত কতোখানি দীর্ঘ হওয়া উচিত? আপনি যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন সেটির ধরণ এবং আপনার কর্ম অভিজ্ঞতার উপর যদিও জীবনবৃত্তান্তের দৈর্ঘ্য নির্ভর করে, তারপরেও বলতেই হবে যে আপনার জীবনবৃত্তান্ত যথাসম্ভব সংক্ষিপ্ত এবং বাঞ্ছনীয় রাখুন। আপনার জীবনবৃত্তান্তে কোন কোন বিষয়গুলো একদমই উল্লেখ না করলেও চলে তা প্রথমে বাছাই করুন।

১। আপনার জীবনবৃত্তান্ত থেকে অপ্রাসঙ্গিক পদের বর্ণনা বাদ দিন

এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যাবে না যে কিনা তার চরম অপছন্দের চাকরি করতে বাধ্য হয়নি কখনও। ডিশ পরিষ্কার করা, বাজার সদাই প্যাকিং করা, পরিচারিকার কাজ করা, হ্যামবার্গার তৈরি করা – এর কোনটাই আপনার পেশাগত লক্ষ্যের মধ্যে পড়ে না। কাজেই জীবনবৃত্তান্ত থেকে এখনই বাদ দিয়ে দিন এগুলো।

এই চাকরিগুলো করে হয়তো আপনার বিল পরিশোধ করতে পেরেছেন, কিন্তু কোন নিয়োগকর্তাই আপনার পেশাগত জীবনের এই সব সংগ্রামের কথা জানতে আগ্রহী নন।

আপনার পেশাগত লক্ষ্যের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ নয় এমন সব বিবরণও মুছে ফেলা উচিত। আপনি হয়তো আপনার কলেজের মূল বিষয় হিসাববিজ্ঞান ছিল বলে হিসাবরক্ষক হিসেবেই কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। তবে আপনি যদি ইতোমধ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং বা অন্য কোন ক্ষেত্রে কাজ শুরু করে দিয়ে থাকেন তাহলে ওই হিসাবরক্ষণের কাঠখোট্টা সব সংখ্যা দিয়ে জায়গা ভরাট করার কোন মানে নেই।

২। অপ্রয়োজনীয় কাজ বা অর্জন বাদ দিয়ে দিন

প্রতিটা চাকরিতেই নির্দিষ্ট কিছু কাজ বা দায়িত্বের তালিকা থাকে। সবগুলো আপনার জীবনবৃত্তান্তে উল্লেখ করতে হবে এমন না। আপনার কাজের ক্ষেত্রে বেড়ে উঠতে সাহায্য করেনি বা করবে না এমন যে কোন দায়িত্ব উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকুন।

আপনার কোম্পানির সিইও বা আপনার কাজের ক্ষেত্রের কোন খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞের সাথে কাজ করাটা একটা বড় অর্জন। এগুলো বাদ দিবেন না। এইসব অভিজ্ঞতার কথা আপনি দুইভাবে উল্লেখ করতে পারেন:

  • তাঁদের সাথে কাজ করার ফলে আপনার পেশাগত ক্ষেত্রে কতোটা দ্রুত এগিয়ে যেতে পেরেছেন।
  • তাঁরা আপনার চিন্তা ধারণাকে কতোটা মূল্যায়ন করেছেন এবং নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন।

৩। জীবনবৃত্তান্ত থেকে সাধারণ দক্ষতাগুলো বাদ দিয়ে দিন

আপনি যদি সহকারী পদে বা দায়িত্ব পালনে এইসব দক্ষতা কাজে লাগবে এমন কোন পদে আবেদন করে থাকেন তাহলেই মাত্র রিসার্চ, ইমেইল দেখাশোনা, ও মাইক্রোসফট ওয়ার্ডের মতো সাধারণ সব যোগ্যতা উল্লেখ করা যেতে পারে।

আপনি যে চাকরিতে আবেদন করছেন সেখানে আলাদাভাবে নির্দিষ্ট করা না থাকলে এই ধরণের দক্ষতা বা যে কোন প্রশিক্ষণের কথা উল্লেখ করবেন না।

৪। অপ্রাসঙ্গিক সামাজিক কর্মকাণ্ড উল্লেখ করবেন না

আপনি যদি চাকরি বা পেশা পরিবর্তনের চিন্তা করেন তাহলে আপনার কাজের ইতিহাস সমৃদ্ধ করার জন্য সামাজিক কর্মকাণ্ড খুবই কার্যকর। অন্যথায় এটি জায়গার অপচয় ছাড়া কিছুই নয়। আপনার আবেদনকৃত চাকরিতে প্রাসঙ্গিক না হলে স্মাআজিক বা স্বেচ্ছাসেবী কাজের উল্লেখ করবেন না। বরং আপনার লিঙ্কডইন প্রোফাইলে এটির বিবরণ দিন।

৫। পেশাগত দায়িত্বের লম্বা একঘেয়ে বর্ণনা ছোট করে ফেলুন বা মুছে ফেলুন

কখনও কখনও আপনার কাজের বিবরণ উল্লেখ করা জরুরী। বিশেষ করে আপনার চাকরির পদবী যদি অস্পষ্ট কিছু হয়ে থাকে (যেমন, নির্বাহী সহকারী বা গ্রাফিক ডিজাইনার)।

আপনার কাজের বিবরণ বুলেট পয়েন্ট দিয়ে মার্জিনের বাড়তি জায়গা নষ্ট করার পরিবর্তে সংক্ষেপে বর্ণনা করুন। যেমন, আপনার চাকরির পদবীর নিচে এই বিবরণ উল্লখে করে গ্রাফিক ডিজাইনার হিসেবে আপনার দায়িত্ব কী ছিল তা নির্দিষ্ট করতে পারেন।

“কখগ ব্র্যান্ডের খাদ্য ও ঘরবাড়ি পরিচ্ছন্ন করার দ্রব্য পন্যজাত করার উপাদানের নকশা তৈরি করার জন্য নিয়োজিত পণ্য ও বাজারজাতকরণ দলের সাথে সহযোগিতামূলকভাবে কাজ করেছি”।

এই বাক্যে পরিষ্কার বুঝা যাচ্ছে আপনি কী ডিজাইন করেন এবং কাদের সাথে কাজ করেছেন। কাজেই আপনি আপনার ডিজাইন পোর্টফলিওর অন্যান্য আকর্ষণীয় বিষয়গুলো এখন সহজেই বুলেট পয়েন্টের মাধ্যমে তুলে ধরতে পারবেন।

আপনার জীবনবৃত্তান্তটিকে আকর্ষণীয় করে তুলতে আরও পরামর্শ চান?

সুন্দর লিখনশৈলীর মাধ্যমে আপনার জীবনবৃত্তান্তটি ছোট করে ফেলুন

আপনার জীবনবৃত্তান্তটিকে যতোটা সম্ভব ছোট রাখতে আঁটাআঁটি করে লেখার উপায়। আপনি যে চাকরির জন্য আবেদন করছেন সেটি সম্পর্কিত কাজের অভিজ্ঞতা লেখার যথার্থ দৈর্ঘ্য।

১। জীবনবৃত্তান্ত এডিট করার সাধারণ কিছু কৌশল

আপনার জীবনবৃত্তান্তের বাক্যগঠন এবং রচনাশৈলী উন্নত করার কিছু কৌশল নিচে উল্লেখ করা হল।

  • ‘সৃষ্টিশীল’, ‘ক্রেতা-ভিত্তিক’, বা ‘কর্মদক্ষতা-চালিত’ এই ধরণের দ্ব্যার্থবোধক শব্দ ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। এগুলে শুনতে ভালোই, কিন্তু আপনার আবেদনের মান খুব একটা উন্নত করে না।
  • ‘of the’ শব্দাংশ দিয়ে তৈরি বাক্যগুল পুনর্গঠন করুন। যেমন, “In charge of the Food and Beverage (F&B) team” এবং “Head of Food and Beverage (F&B)”-এর অর্থ একই।
  • বাক্যে ‘that’-এর অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার মুছে ফেলুন। জীবনবৃত্তান্তে এই শব্দতি থাকলে বাক্যটি এই শব্দ ছাড়া আরেকবার পড়ুন। যদি মনে হয় অরথের কোন হেরফের হচ্ছে না তাহলে তা বাদ দিয়ে দিন। যদি অর্থের হেরফের না হয় আবার বাক্যটি ব্যাকরণগতভাবে সঠিক থাকে, তাহলে মুছে ফেলুন। এই বাড়তি শব্দটি যে আপনার খুবই কম দরকার হয় তা আবিষ্কার করে অবাক হয়ে যাবেন আপনি।
  • ‘very’, ‘really’ এবং অন্যান্য ক্রিয়া-বিশেষণ মুছে ফেলুন। ‘very’ এবং ‘really’-র মতো শব্দের ব্যবহার ছাড়াও বাক্যাংশ গঠন করা যায় বা চাইলে আরও সহজভাবে লেখা যায়। “Executed a very successful product launch” এবং “Executed a successful product launch” বাক্যাংশ দুটির মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।

২। জীবনবৃত্তান্তে তথ্যের পুনরাবৃত্তি রোধ করুন

আপনি কি বিভিন্ন মালিকের অধীনে একই কাজ করতেন? আপনার প্রতিটি মালিকের অধীনে করা সেই একই ধরণের কাজ বারবার উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই। প্রতিটি মালিকের অধীনে আপনার সেরা কাজটি বাছাই করুন। এভাবে আপনার পেশাগত কাজের ইতিহাসে সব কাজ যাতে সমানভাবে উদ্ধৃত হয় সেভাবে লিখুন। এতে স্বল্প দৈর্ঘ্যে আপনার সমস্ত দক্ষতা উঠে আসবে।

যেমন, বিভিন্ন চাকরিতে সেলস, কাস্টমার সার্ভিস এবং সমস্যার সমাধান করা সাধারণ দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। ধরুন আপনি বিক্রয়ের জন্য কোন পুরষ্কার পেয়েছেন বা কোন কোম্পানির মাসিক কোটা পার করেছেন। আবার অন্য একটি কোম্পানিতে কাস্টমার সারভিসের কাজে দক্ষতার জন্য প্রশংশিত হয়েছেন, কিংবা আপনার কাজের অংশ হিসেবে কোন একটি দলীয় সমস্যার সমাধান বের করেছেন। জীবনবৃত্তান্তের কর্মজীবনের ইতিহাসের তিনটি ভিন্ন খাতে এই তিনটি অর্জন আলাদাভাবে লিখুন। এই কৌশল অবলম্বন করলে আপনার তিনটি লাভ হবে:

  • অ্যাপ্লিকান্ট ট্র্যাকিং সিস্টেমের (এটিএস) মূল শব্দগুলো পাওয়া যাবে। 
  • আপনার কর্মজীবনের ইতিহাসে প্রতিটি বিষয়ের জন্য প্রতিটি কাজ বর্ণনা করার ভিন্ন ভিন্ন উপায় খুঁজে বের করতে হবে না।
  • অন্তত দুইটি বুলেট পয়েন্টের জায়গা বেঁচে যাবে।

৩। বুলেট পয়েন্টের প্রথম এবং শেষ তিনটি শব্দের উপর গুরুত্ব দিন

পাঠকেরা যে কোন শিরোনামের প্রথম এবং শেষ তিনটি শব্দ মনে রাখে। আপনার জীবনবৃত্তান্তের সাবহেডিং এবং বুলেট পয়েন্ট লেখার ক্ষেত্রেও এই কৌশল অবলম্বন করতে পারেন।

এটা করার জন্য, বুলেটের প্রথম তিনটি শব্দ ক্রিয়া, সংখ্যা, বা কীওয়ার্ডের জন্য বরাদ্দ করুন। শেষের তিনটি শব্দ ব্যবহার করে আপনি আপনার অর্জন ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করুন অথবা ছয় শব্দের মধ্যে বুলেট পয়েন্ট তৈরি করে ফেলুন। 

উদাহরণ:

  • প্রতি-ক্লিকে-পারিশ্রমিক পরিশধের প্রচারণাভিযান উন্নত করার মাধ্যমে মার্কেটিং টিমের সাথে কাজ করে পণ্যের বিক্রয় হার ৩০% বৃদ্ধি
  • নতুন প্রশাসনিক বাজেট প্রণয়নের মাধ্যমে ব্যয় ২০% কমিয়ে আনা

৪। ব্যক্তি ও নামবাচক বিশেষ্য মুছে ফেলুন

যেহেতু এটা আপনারই জীবনবৃত্তান্ত কাজেই নিয়োগকর্তারা এটা জানেন যে এখানে উল্লিখিত সমস্তকাজ আপনার করা। অতএব “আমি” বা “আমাকে” আলাদা করে লেখার প্রয়োজন নেই। “আমি হোটেলের ওয়েবসাইটের থিম ডিজাইন করেছি” লেখার বদলে “হোটেলের ওয়েবসাইটের থিম ডিজাইন করেছি” লিখুন।

৪। সুনির্দিষ্ট শব্দ ব্যবহার করে দ্ব্যার্থবোধক শব্দ উঠিয়ে ফেলুন

“সহায়তা দিয়েছি”, “সাহায্য করেছি” বা “দায়িত্বে ছিলাম” এই ধরণের অস্পষ্ট অর্থবোধক বাক্যাংশের বদলে বর্ণনামূলক ক্রিয়া বা বিশেষণ ব্যবহার করুন। কখনও কখনও নতুন বাক্যাংশটি আগের চাইতে বড় হবে, কখনও ছোট হবে। তবু অন্তত আপনার জীবনবৃত্তান্তে অচল অবস্থায় পড়ে থাকবে না।

উদাহরণ:

  • টেলিভিশনের বিজ্ঞাপনের জন্য উন্নত মানের ইমেজ তৈরি করেছি” বাক্যাংশটির তুলনায় “টেলিভিশনের বিজ্ঞাপন তৈরিতে অ্যানিমেটরদের সাহায্য করেছি” – এই বাক্যাংশটি অনেকাংশে অস্পষ্ট।
  • হাসপাতালের বাসিন্দা হিসেবে ভর্তি রোগীদের প্রতিদিনের কাজ সম্পন্ন করতে সাহায্য করেছি” – এই বাক্যাংশটির বদলে “বৃদ্ধ রোগীদের নিজেদের এপার্টমেন্ট পরিষ্কার করতে সহযোগিতা করেছি” ব্যবহার করলে ভালো।
  • “দাতব্য অনুষ্ঠানের জন্য অর্থ উত্তোলনের দায়িত্বে ছিলামে” বাক্যাংশটি ছোট করে এভাবে লেখা যায়, “দাতব্য অনুষ্ঠানের জন্য ৮০,০০০ ডলার সংগ্রহ করেছি”।

৬। লাইন বাঁচিয়ে লিখুন

আপনার জীবনবৃত্তান্ত যদি মূলত দুই পাতার হয়ে থাকে তাহলে সেটির দৈর্ঘ্য ছোট করে ফেলে জায়গা বাঁচানোর বিরাট সুযোগ রয়ে গেছে এখনও। সেক্ষেত্রে আপনাকে পেইজ ব্রেক বা নিজের লাইনে নেই এমন বিষয়গুলোর দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

যেমন, আপনার কোর্স বা মূল বিষয় কি আলাদা আলাদা লাইনে লেখা খুব জরুরী?

ইউসিএলএ ২০১০

ইংরেজিতে ব্যাচেলর অফ আর্টস

এটা কি এভাবে লেখা যায় না?

বিএ ইংলিশ, ইউসিএলএ ২০১০

আপনি আপনার ঠিকানা, ফোন নাম্বার, এবং ইমেইল লেখার ক্ষেত্রেও এই কৌশল ব্যবহার করতে পারেন। দুই বা তিন লাইনে না লিখে একটা লাইনে সব লিখে ফেলুন:

মেইন স্ট্রিট, শিকাগো | joedesignlogos@gmail.com | ৩১২-৮৪৫-১২৯৮

যদিও সব একসাথে লিখতে হচ্ছে তারপরেও এটিকে পাঠযোগ্য রাখার মতো যথেষ্ট জায়গা রয়েছে। সেই সাথে আপনার লিঙ্কডইন প্রোফাইলের ইউআরএল যোগ করে দিতে পারবেন।

জায়গা বাঁচানোর জন্য জীবনবৃত্তান্তের যেসব অংশ মুছে ফেলতে বা এডিট করতে হবে

আপনি প্রয়োজনীয় অংশ বা বাড়তি সংযোজন মুছে ফেলে জীবনবৃত্তান্তের দৈর্ঘ্য ছোট করে ফেলতে পারেন। যেমন:

১। শখ

আপনি কাজের বাইরে কী করতে ভালবাসেন তা নিয়ে চাকরিদাতাদের আসলে কোন মাথা ব্যাথা নেই যদি না আপনার চাকরির জন্য সেটি দরকারি হয়। অপ্রাসঙ্গিক শখ বা আগ্রহ উল্লেখ করা থেকে বিরত থাকুন। এতে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য জায়গা তৈরি হবে আবার প্রার্থী হিসেবে আপনার সঠিক মূল্যায়ন হবে।

২। রেফারেন্স

নিয়োগকর্তারা জানেন যে তাঁরা চাইলেই আপনি একগাদা রেফারেন্স ধরিয়ে দিতে পারবেন।

৩। পেশাগত কাজের ইতিহাস

১০ বছরের পুরনো কাজের ইতিহাস মুছে ফেলুন। আপনার কাঙ্ক্ষিত চাকরির জন্য এটি জরুরী হলে শুধুমাত্র কাজের পদবী এবং কোম্পানির নাম উল্লেখ করুন।

আপনি যদি কোন কোম্পানিতে ১০ বছরের বেশি সময় ধরে চাকরি করে থাকেন তাহলে কোম্পানির নাম উল্লেখ করে তার নিচে আপনি সেখানে যে সমস্ত পদে কাজ করেছেন সেগুলো উল্লেখ করুন। সেইসব কাজের পদবী আলদা করে অন্য কোথাও উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই কারণ তাতে শুধু জায়গার অপচয়ই হবে। সেই সাথে পেশাগত জীবনে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও কমে যাবে।

৪। ছবি

বয়স সংক্রান্ত বা যে কোন ধরণের বৈষম্য এড়িয়ে যেতে হলে জীবনবৃত্তান্ত থেকে আপনার ছবি মুছে ফেলুন। আপনার ছবি যদি দেখতে সুন্দরও হয় তবুও কারও কাছে এটিকে অপেশাদার মনে হতে পারে। আর কিছু না হোক, আসল ব্যাপার হচ্ছে আপনি চাকরি খুঁজতে এসেছেন, প্রেম করতে নয়।

৫। অল্প কিছু লাইনে শেষের পাতা

আপনার জীবনবৃত্তান্তের দ্বিতীয় পাতা কি টেনেটুনে পৃষ্ঠার মাঝমাঝি এসেছে? তার মানে হচ্ছে আপনি প্রথম পাতায় খুব বেশি তথ্য ঢুকিয়ে ফেলেছেন। প্রথম পাতায় আপনার লেখা সংক্ষিপ্ত করে অপ্রয়োজনীয় তথ্য বাদ দিন যাতে করে দেখে মনে না হয় যে আপনি আপনার যোগ্যতা প্রদর্শনের আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

৬। শিক্ষাগত বিবরণ এবং সদস্যপদ

রিকলান রিসোর্সের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং এক্সিকিউটিভ রেজ্যুমে রাইটার মিশেল রিকলানের পরামর্শমতে, “আপনার জিপিএ, বিভিন্ন কোর্সের কর্মকাণ্ড, স্কুলের অবস্থান, ক্লাব সংক্রান্ত তথ্য এবং স্কুলের অন্যান্য সংগঠন সংক্রান্ত তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকুন। কয়েক বছরের চাকরির অভিজ্ঞতার পর এই যোগ্যতাগুলো উল্লেখ করা একটা বাড়তি তথ্য যোগ করা ছাড়া আর কিছুই নয়”।

পেশাগত বিভিন্ন সংগঠন এবং সংযুক্তির ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। বিশেষ করে আপনি যদি আর সেইসব সংগঠনের সদস্য না হয়ে থাকেন বা তা যদি আপনার চাকরির জন্য প্রাসঙ্গিক না হয়ে থাকে।

৭। অপ্রচলিত প্রযুক্তিগত দক্ষতা

রথবাওয়ার-ওয়ানিশ বলেন, “একবার আমি আমার এক ক্লায়েন্টকে পরামর্শ দিয়েছিলাম সে যেন তার জীবনবৃত্তান্ত থেকে পুরনো প্রযুক্তিভিত্তিক, যেমন উইন্ডোজ ৯৫, মাইক্রোসফট ওয়ার্কস, এবং ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারসহ সমস্ত দক্ষতা উল্লেখ করে যে অংশ তৈরি করা হয়েছিলো সেটি মুছে ফেলে। এই ধরণের তথ্য জায়গা দখল করে আর পাঠককে এমন ধারণা দেয় যে প্রার্থী প্রচলিত প্রযুক্তির ছোঁওয়া থেকে দূরে রয়েছেন”। 

জীবনবৃত্তান্ত লিখতে সহায়তা করতে পারে এমন আরও কিছু উৎস

আমাদের বহু আংশিক সিরিজের চলে যান: দারুণ একটা জীবনবৃত্তান্ত তৈরির উপায় (সেরা সব নির্দেশনা)। অথবা, এই টিউটোরিয়ালগুলো দেখে শিখে নিন কিভাবে চমৎকার একটি জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করে ফেলতে পারবেন:

আপনি চাইলে গ্রাফিকরিভার থেকে জীবনবৃত্তান্তের পেশাদারী টেম্পলেট সংগ্রহ করতে পারেন। এতে করে চমৎকার ডিজাইনে সুন্দর সব জীবনবৃত্তান্ত তৈরি করে ফেলতে পারবেন সহজেই। আপনাকে সাহায্য করার মতো এমন সব উৎসের খোঁজ নিচে দেওয়া হল:

কোনটি কাজে দেয় তা দেখতে করুন নানান ধরণের পরীক্ষা নিরীক্ষা

কোন নির্দিষ্ট নিয়োগকর্তা বা চাকরিদাতার জন্য জীবনবৃত্তান্তের আদর্শ দৈর্ঘ্য কেমন হতে পারে তা বলার মতো কোন জাদু আমাদের হাতে নেই। আপনার জীবনবৃত্তান্ত কতো লম্বা হবে তা জানার কোন নিশ্চিত উপায় নেই। কাজেই আপনি যা করতে পারেন তা হল বিভিন্নভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে দেখে নিন কোনটি কাজে দেয়।

আপনার সমস্ত প্রাসঙ্গিক অভিজ্ঞতা ও অর্জন সংক্ষেপে এক পাতায় লিখে ফেলুন। আপনার পেশাগত কাজের ইতিহাসও বলতে পারেন এটিকে।

প্রথমে দুই পাতার সাধারণ জীবনবৃত্তান্তটি পাঠিয়ে দেখুন। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যদি কোন সাড়া না পান তাহলে তাঁরা সংক্ষিপ্ত আবেদন পেতে বেশি আগ্রহী কিনা জানতে এক পাতার জীবনবৃত্তান্তটি পাঠিয়ে দিন।

Advertisement
Advertisement
Advertisement
Advertisement
Looking for something to help kick start your next project?
Envato Market has a range of items for sale to help get you started.